​​

Press Release : | Rohingya, Burmese, English, Français

আইসিসি অভিশংসক, ফাটু বেনসুডা, বাংলাদেশ/মিয়ানমার পরিস্থিতির তদন্ত শুরু করার জন্য বিচার সংক্রান্ত অনুমোদন চান

ICC-OTP-20190704-PR1465


আজ, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের ("আইসিসি" বা "কোর্ট") অভিশংসক আদালতের বিচারপতিদেরকে কথিত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ তদন্ত করা অনুমোদনের অনুরোধ করেন, যেমন মিয়ানমার হতে রোহিঙ্গা জনগণের নির্বাসন, ও তাঁদের বিরুদ্ধে কৃত অন্যান্য অমানুষিক কাজকর্ম ও অত্যাচার। 

অডিও এবং ভিডিও

  • ইউটিউব (দেখার জন্য)
  • ভিডিও (এমপিইজি-৪) ডাউনলোড করার জন্য
  • অডিও (এমপিইজি-৩) ডাউনলোড করার জন্য

আরো নির্দিষ্টভাবে, অনুরোধটি আদালতের বিচারপতিদের কাছে আদালতের এক্তিয়ারের মধ্যে কথিত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধগুলির অন্তত একটি অংশ যা বাংলাদেশের এলাকায় ঘটেছে – যে রোম সংবিধির অন্তর্গত রাষ্ট্র – তার এবং সম্প্রতি ঘটিত মিয়ানমারের অঞ্চলভূক্ত রাখাইন ষ্টেটে দুইটি হিংস্রতার ঢেউ প্রসঙ্গে, এবং পাশাপাশি এই সব ঘটনার সঙ্গে যথেষ্টভাবে জড়িত ঘটনাগুলির তদন্ত শুরু করার অনুমোদন চায়। 

৯ অক্টোবর ২০১৬ থেকে শুরু করে অন্তর্গত সময়কাল অনুরূদ্ধ তদন্তের অন্তর্ভুক্ত।

অভিশংসকের এই অনুরোধ তাঁর অফিসের পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রাথমিক পরীক্ষার পরবর্তী কাজ যা, আমাদের মূল্যায়নে, রোম সংবিধির অধীনে প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু করার আইনী শর্তগুলি পূরণ করেছে।

স্মরণ থাকতে পারে যে গত বছরের ৯ই এপ্রিল, অভিশংসক আদালতের বিচারপতিদের কাছে রোহিঙ্গা জনগণের মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে কথিত নির্বাসনের বিষয়ে এক্তিয়ারের প্রশ্নের উপর আইনী বিনির্দেশের জন্য একটি অনুরোধ নথিবদ্ধ করেছিলেন।

বিচারপতিদের উক্ত অনুরোধের জবাবে দেয়া বিনির্দেশের অনুক্রমে এই পরিস্থিতির প্রাথমিক পরীক্ষার দ্বিতীয় পর্যায় গত সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হয়েছিল, যা নিশ্চিত করে যে আদালত সংবিধির ১২(২)(ক) ধারার অনুবর্তিতায় এক্তিয়ার জাহির করতে পারে, "যদি আদালতের এক্তিয়ারভুক্ত অপরাধের অন্তত একটি উপাদান বা তেমন অপরাধের অংশবিশেষ সংবিধির অন্তর্গত রাষ্ট্রের এলাকায় ঘটে থাকে।"

অফিসের প্রাথমিক পরীক্ষা প্রক্রিয়ার পর, অভিশংসক নির্ধারণ করেন যে ৭০০,০০০ রোহিঙ্গা জনগণকে যে নানারূপ জোরজবরদস্তিমূলক কাজের মাধ্যমে এবং রোহিঙ্গাদেরকে দারুণ দুঃখভোগ বা গুরুতর জখম ঘটিয়ে তাঁদের মূল দেশে ফেরার অধিকার লঙ্ঘনের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে নির্বাসন করা হয়েছে তা বিশ্বাস করার যথাসংগত ভিত্তি বিদ্যমান। 

আরো নির্দিষ্টভাবে, পর্যালোচিত তথ্য বিশ্বাস করার যথাসংগত ভিত্তি যোগায় যে, ২০১৭ সালের হিংস্রতার ঢেউ প্রসঙ্গে, নিচের অপরাধগুলি সংঘটিত হয়েছিল, অংশত মিয়ানমারের অঞ্চলে এবং অংশত বাংলাদেশের অঞ্চলে।

  • নির্বাসন সংবিধির ৭(১)(ঘ) ধারা মোতাবেক। যদিও পালিয়ে যেতে বাধ্য করার মত জোরজবরদস্তিমূলক কাজকর্ম মিয়ানমারের অঞ্চলে ঘটে, শিকারগণ সীমানা অতিক্রম করে – নির্বাসন অপরাধের একটি আবশ্যিক উপাদান – বাংলাদেশের অঞ্চলে প্রবেশ করে;

  • অন্যান্য অমানুষিক কাজকর্ম সংবিধির ৭(১)(ট) ধারা মোতাবেক, যেমন, প্রচলিত আন্তর্জাতিক আইনের ইচ্ছাকৃত এবং গুরুতর লঙ্ঘনের মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নিরাপদে ও মানবিকভাবে তাঁদের মূল রাষ্ট্রে যেখানে তাঁদের যথেষ্ট ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে সেখানে ফেরার অধিকার খর্ব করে দারুণ দুঃখভোগ করানো বা গুরুতর জখম ঘটানো;

  • অত্যাচার জাতিগত এবং/অথবা ধর্ম ভিত্তিক সংবিধির ৭(১)(জ) ধারা মোতাবেক, নির্বাসন করা এবং প্রচলিত আন্তর্জাতিক আইনে প্রত্যাবর্তনের অধিকারের ইচ্ছাকৃত ও গুরুতর বঞ্চনা।

এটা আদালতের এক্তিয়ারের অন্তর্গত অন্যান্য সম্ভাব্য অপরাধের যা কোন অনুমোদিত তদন্ত করার সময় ধরা পড়তে পারে তার প্রতি পক্ষপাত ব্যতিরেকে।

যেহেতু মিয়ানমার রোম সংবিধির অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্র নয়, কিন্তু বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত, এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে তদন্তের অনুমোদন, যদি বিচারপতিগণ মঞ্জুর করেন, মিয়ানমারে সংঘটিত সম্ভাব্য সব অপরাধের প্রতি প্রসারিত করা হবে না, কিন্তু বাংলাদেশের অঞ্চলে সম্ভাব্য সংঘটিত অপরাধগুলির অংশবিশেষের উপর দৃষ্টি কেন্দ্রীভুত হবে।

যাহোক, নির্বাসনের তদন্ত করা বলতে বুঝাবে সম্ভাব্য হিংস্রতার উপর ঘনিষ্ঠ দৃষ্টিপাত করা যার জন্য  রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার থেকে পালানো ছাড়া অন্য কোন যথার্থ উপায় ছিল না।

অভিশংসকের অফিস সতর্কতার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক জাতীয় কার্যধারার প্রাপ্ত তথ্যের মূল্যায়ন করেছে। সংঘটিত কাজকর্মের গুরুত্বের আলোকে – যার বিস্তারিত বিবরণ অনুরোধের রূপরেখায় দেয়া হয়েছে – এবং মিয়ানমারে বা কোন তৃতীয় প্রাসঙ্গিক রাষ্ট্রে, পরিস্থিতির সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অপরাধের জন্য যাদেরকে সর্বাধিক দায়ী মনে করা হয় তাদের বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক জাতীয় তদন্ত বা অভিযুক্ত করার অনুপস্থিতিতে, অভিশংসক মনে করেন যে সম্ভাব্য ঘটনাগুলি যার উপর এই পরিস্থিতির তদন্ত কেন্দ্রীভুত হতে পারে বলে তাঁর অফিস নির্ধারণ করেছে, তা সংবিধির ৫৩(১)(খ) এবং ১৭(১)(ক) এবং (খ) ধারার অনুবর্তিতায় গ্রহণযোগ্য হবে।

উপরন্তু, অভিশংসক নির্ধারণ করেছেন যে, অপরাধের গুরুত্ব ও শিকারদের স্বার্থ বিবেচনা করলে, তদন্ত আরম্ভ করা ন্যায়বিচারের স্বার্থ রক্ষা করবে না এরূপ বিশ্বাস করার প্রকৃত কারণ নাই।

অভিশংসকের অনুরোধ মঞ্জুর করা হলে, তাঁর অফিসের তদন্তাধীন অন্যান্য পরিস্থিতিগুলির মত, স্বতন্ত্রভাবে ও নিরপেক্ষভাবে আদালতের প্রতিষ্ঠা সংবিধির অধীনে আমাদের কঠোর সেবার আদেশ এবং সংবিধিতে সন্নিবিষ্ট পরিপূরকতার নীতি অনুযায়ী উক্ত কাজের দায়িত্বভার গ্রহণ করা হবে।

আজ, প্রজোয্য আইন মোতাবেক, অভিশংসক বাংলাদেশ/মিয়ানমার পরিস্থিতির তদন্ত শুরু করা অনুমোদনের জন্য তাঁর অনুরোধ করার ইচ্ছা শিকারদেরকে বা তাঁদের আইনি প্রতিনিধিদেরকেও জানিয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে তাঁরা তাঁর অনুরোধের উপর প্রি-ট্রায়াল চেম্বার 3 এর বিচারকদের কাছে ২৮ অক্টোবর ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত তাঁদের প্রতিনিধিত্ব দাখিল করতে পারেন।

আইসিসির অভিশংসকের অফিস স্বতন্ত্র এবং নিরপেক্ষ প্রাথমিক পরীক্ষা, গণহত্যা অপরাধের, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের, যুদ্ধাপরাধের এবং আগ্রাসন অপরাধের তদন্ত মামলা রুজু পরিচালনা করে ২০০৩ সাল হতে, এই অফিস আইসিসির এক্তিয়ারভুক্ত বহু পরিস্থিতির তদন্ত পরিচালনা করছে, যেমন উগাণ্ডায়; ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে; সুদানের ডারফুরে; সেণ্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে (দুইটি স্বতন্ত্র পরিস্থিতি); কেনিয়াতে; লিবিয়াতে; কোট ডি'ভোরে; জর্জিয়াতে বুরুণ্ডিতে অফিস বর্তমানে আরো কলম্বিয়ার পরিস্থিতির সঙ্গে; গিনিতে; ইরাক/যুক্তরাজ্যে; ফিলিস্তিনে; ফিলিপিন্সে; নাইজেরিয়ায়; উকরেইনে, এবং ভেনিজুয়েলায় জড়িত বিষয়ের প্রাথমিক পরীক্ষা পরিচালনা করছে

সূত্রঃ  অভিশংসকের অফিস  ।  [email protected]

Source : Office of the Prosecutor